শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮ ১২:০১:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০১৫, ০৬:৪১:৪৭
Zoom In Zoom Out No icon

মরা নদীর বুকে ধান চাষ

মরা নদীর বুকে ধান চাষ

ঠাকুরগাঁও:  ঠাকুরগাঁওয়ে মরা নদীরগুলোর বুক ভরে উঠেছে ভূমিহীন চাষীদের ফলানো ধানে। মৃতপ্রায় এসব নদ-নদীতে জেগে ওঠা বালুচরে বোরো ধান চাষ করছেন ভূমিহীন দরিদ্র কৃষকরা। এতে নদীর তীরের দরিদ্র কৃষকদের আপাত সচ্ছলতাও এসেছে।

জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট-বড় ১২টি নদীর উৎসমুখ ভারতের উজানে একতরফাভাবে বাঁধ নির্মাণ করার ফলে শুকনো মৌসুমে এসব নদ-নদীতে চর পড়ে যায়। আর এ সুযোগে নদী তীরবর্তী ভূমিহীনরা নদীর চরকেই চাষাবাদের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়।

শুকনো মৌসুমে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছর জেলার ছোট-বড় নদীগুলোতে বোরো ধান চাষ করেছেন সহস্রাধিক কৃষক। বর্তমানে রোপন পরবর্তী পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। নদীতে ধানের সবুজ চারাগাছ বাতাসে দোল খাচ্ছে। নদী বক্ষের বিস্তীর্ণ এলাকা ধান গাঁছের কাচা রঙে সবুজ হয়ে উঠেছে।

শুধু টাঙ্গন নদীতেই নয়, জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট-বড় প্রায় ১২টি নদীর চিত্র একই। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে বাঁধ নির্মাণের কারণে প্রতিবছর এই মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিটি নদীই পানিশূন্য হয়ে যায়। চুয়ে আসা সামান্য পানিতেই নদীর দুই কূলের ভূমিহীনরা প্রতিবছরই চাষ করে আসছেন বোরো ধান।

ভূমিহীন বোরো চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিজস্ব জমি না থাকায় তারা চাষাবাদ করতে পারেন না। অপরদিকে সেচ দেয়া পানির চেয়ে নদীর চুয়ে আসা পানি বোরো চাষে অনেক বেশি উপকারী। এতে সার ও সেচসহ সবকিছুতেই সাশ্রয় হয় চাষীদের।

ঠাকুরগাঁও জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঠাকুরগাঁও টাংগন, সেনুয়া, ভুল্লী, ঢেপা, শুক, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার অহনা, তিরনই, রানীশংকৈলের কুলিক, পীরগঞ্জের লাচ্ছি, চরনা এবং হরিপুর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া নাগর নদীতে এখন বিস্তৃীর্ণ চর। প্রায় প্রতিটি নদীর বালুচরে চাষ করা হয়েছে বোরো ধান।

অধিকাংশ চাষীই গত ৮/১০ বছর থেকে জেগে ওঠা চরে বোরো ধান চাষ করছেন। নভেম্বর মাস থেকে নদীতে পানি কমে গেলে বালুচরের জায়গা নিজেদের দখলে নিয়ে বোরো চাষের উপযোগী করে তোলার জন্য কাজে নেমে পড়েন চাষীরা। মাস দুয়েক পরিশ্রম করে বেদা ও কোদাল দিয়ে বালু সরিয়ে আইল বেঁধে পানি আটক করা হয়। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে জমি সমান করার পর বোরো ধান রোপন করা হয়।

চাষীরা জানায়, নদীতে বোরো ধান চাষে বিঘা প্রতি খরচ হয় প্রায় ২ থেকে ৩  হাজার টাকা। বিপরীতে এক বিঘা জমিতে ধান আসে ২২ থেকে ২৫ মণ। তা দিয়েই ভূমিহীন কৃষকদের কয়েক মাসের খাবারের জোগান হয়। আগাম ধান লাগানোর কারণে জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম সপ্তাহে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা।

ভূমিহীন দিনমজুর জহিরুল ইসলাম। ৫ মেয়ে ও ১ ছেলেকে নিয়ে স্ত্রীসহ প্রায় ১০ বছর ধরে বাস করছেন শহরের হঠাৎপাড়া এলাকায়। নিজের জমি না থাকায় বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া টাঙ্গন নদীতে ১ বিঘা জমি গত কয়েক বছর থেকে বোরো ধান চাষ করে আসছেন। এ জমির ধান থেকেই তার পরিবাররের কয়েক মাসের খাবারের জোগান হয়।

খালপাড়া এলাকার ভূমিহীন সাদেকুল এবার টাঙ্গন নদীতে ২ বিঘা বোরো ধান লাগিয়েছেন।

তিনি জানান, বর্ষার সময় পানির সঙ্গে যে পলি পড়ে তা আমাদের ধান ক্ষেতের সার হিসেবে কাজে লাগে। তাই অতিরিক্ত সার দিতে হয় না। তবে নদীতে ধান লাগানো অনেক চাষীই আগাম বর্ষার আশঙ্কা করছেন।
ভূমিহীন আব্বাস আলী জানান, ভারত থেকে হঠাৎ করে পানি ছেড়ে দিলে আমাদের এই কষ্টের আবাদ একেবারেই ধ্বংস হয়ে যাবে। আগাম বর্ষা হলে ধান ডুবে যেতে পারে তাই আমরা একটু তাড়াতাড়ি ধানের চারা রোপন করছি। গত বছর অনেক চাষীর ধান ডুবে গিয়েছিল। ফলে অনেক চাষীকেই লোকসান গুণতে হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ছোট-বড় সকল নদীতেই বোরো ধান চাষাবাদ হয়েছে। সাধারণ ব্রি-২৮, ব্রি-৩২ জাতের ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলার ছোট-বড় ১০টি নদীর বালুচরে সহস্রাধিক চাষী প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী বলেন, ‘ভূমিহীন কৃষকেরা সুযোগ পেলেই এসব নদীর চরে চাষাবাদ করেন। এখন তারা বোরো আবাদ করছেন।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, ‘জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদী ড্রেজিং করে বাঁধ ও জলকপাট নির্মাণ করতে হবে। সেই সঙ্গে পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে কৃষিক্ষেত্রে সেচসুবিধা অব্যাহত রাখা সম্ভব।

 

নেশন নিউজ / টিআই

 

এ রকম আর ও খবর



বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  .  জাতীয়  .  স্বাস্থ্য  .  দেশ  .  লাইফস্টাইল  .  ফিচার  .  বিচিত্র  .  আন্তর্জাতিক  .  রাজনীতি  .  শিক্ষাঙ্গন  .  খেলাধুলা  .  আইন-অপরাধ  .  বিনোদন  .  অর্থনীতি  .  প্রবাস  .  ধর্ম-দর্শন  .  কৃষি  .  রাজধানী  .  শিরোনাম  .  চাকরি
Publisher :
Copyright@2014.Developed by
Back to Top