বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯ ১২:১৮:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল, ২০১৫, ০৪:০৮:৪৯
Zoom In Zoom Out No icon

চড়া সুদে ১৬৪০ কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার

চড়া সুদে ১৬৪০ কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার

অর্থনীতি ডেস্ক: সিরাজগঞ্জে ২২৫ মেগাওয়াট (২য় ইউনিট-ডুয়েল ফুয়েল) কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণে চড়া সুদের ঋণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ১,৬৪০ কোটি টাকার বিদেশি নন-কনসেশনাল বা কঠিন শর্তের ঋণ নেয়া হচ্ছে।


বিদেশি ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের কাছ থেকে ঋণ নেয়ার প্রস্তাব বুধবার স্ট্যান্ডিং কমিটি অন নন-কনসেশনালের সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।


ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাছ থেকে ১,৬৪০ কোটি টাকা নেয়া হবে। এর মধ্যে ৩১৫ কোটি টাকা সুদ ও অন্যান্য ফি। বাকি ১,৩২৫ কোটি টাকা চায়না মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনকে (সিএমসি) বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য পরিশোধ করা হবে।


ঋণটির সুদ প্রায় ৪ শতাংশ। তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১২ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।


আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ছক অনুযায়ী ঋণটির গ্র্যান্ট ইলিমেন্ট মাত্র ১৭ শতাংশ। এটি ৩৫ শতাংশের উপরে সহজ শর্তের ঋণ হিসেবে বিবেচনা করে ইআরডি। একই সঙ্গে এটি বায়ার্স ক্রেডিট। ফলে ইআরডির হিসাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ঋণ প্রস্তাবটি চড়া সুদের।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদেশিক ঋণ নেয়ার সহজতর বিকল্প বাদ দিয়ে কঠিন পথে হাঁটছে সরকার। ফলে ঋণ পরিশোধের গড় রেয়াতকাল একদিকে যেমন কমছে, অন্যদিকে ঋণ পরিশোধের চাপও তেমনি বাড়ছে।


তাদের মতে, ঋণ পরিশোধের কঠিন আবহ থেকে বের হতে না পারলে ভবিষ্যতে ইউরোপীয় অর্থনীতির মতো বড় ধরনের সংকট মোকাবেলা করতে হবে বাংলাদেশকে। এ অবস্থার লাগাম টানতে না পারলে দ্রুতই দেশের অর্থনীতির ভারসাম্য দুর্বল হয়ে পড়বে।


বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর এ প্রসঙ্গে বলেন, সম্প্রতি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ব্যাপক হারে চড়া সুদের ঋণ বেড়ে গেছে। হাতে গোনা কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অতি আগ্রহে কঠিন শর্তের ঋণ নেয়া হচ্ছে। এগুলোতে আবার বড় অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। যা পুরো দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এগুলোর রাশ টানতে হবে অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।


তিনি বলেন, এ ঋণের বিপরীতে নিম্নমানের পণ্য দেশে আসছে। এ ধরনের ঋণ অতি প্রয়োজনীয় হলে উৎপাদনশীল খাতে নেয়া যেতে পারে। যেসব কর্মসূচির বিপরীতে ঋণ নেয়া হচ্ছে আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিতে বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।


সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে ছয়টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এগুলো হল— গংডং ইলেকট্রিক পাওয়ার ডিজাইন ইন্সটিটিউট, সাংহাই ইলেকট্রিক গ্রুপ কোম্পানি, চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট, এবেংগোয়া এসএ স্পেন, চায়না ন্যাশনাল ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড ও সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।


এর মধ্যে চায়না ন্যাশনাল ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড সর্বনিু দরদাতা হিসেবে ১,৩২৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার প্রস্তাব করে। এর পর সংস্থাটির সঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (নওপাজেকো) সঙ্গে চুক্তি হয়।


এদিকে সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা চড়া সুদে ঋণ নেয়া হয়। বায়ার্স ক্রেডিট ঋণটির সুদ ৫ শতাংশের বেশি। দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের মধ্যে যা পরিশোধ করতে হবে।


নেশন নিউজ/ এফএ

এ রকম আর ও খবর



বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  .  জাতীয়  .  স্বাস্থ্য  .  দেশ  .  লাইফস্টাইল  .  ফিচার  .  বিচিত্র  .  আন্তর্জাতিক  .  রাজনীতি  .  শিক্ষাঙ্গন  .  খেলাধুলা  .  আইন-অপরাধ  .  বিনোদন  .  অর্থনীতি  .  প্রবাস  .  ধর্ম-দর্শন  .  কৃষি  .  রাজধানী  .  শিরোনাম  .  চাকরি
Publisher :
Copyright@2014.Developed by
Back to Top