বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯ ১১:১১:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শুক্রবার, ০৩ মার্চ, ২০১৭, ০২:০৭:২১
Zoom In Zoom Out No icon

ঢামেক হাসপাতালে ‘বড় ছয়’ অনিয়ম

ঢামেক হাসপাতালে ‘বড় ছয়’ অনিয়ম

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এ প্রকল্পে খুঁজে পেয়েছে ‘বড় ছয়’ ধরনের অনিয়মসহ বেশকিছু ত্রুটি।


এ প্রকল্পে অনুমোদন ছাড়া চুক্তিমূল্যের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়, খেয়ালখুশিমতো এক অংশের বরাদ্দ অন্য অংশে ব্যয়, সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) সংস্থানের অতিরিক্ত মূল্যে চুক্তি ও অর্থ ব্যয় করা, মসজিদ সংস্কারে বরাদ্দের অতিরিক্ত খরচ, ছাড় করা অতিরিক্ত অর্থ বিধিমোতাবেক সরকারি কোষাগারে জমা না দেয়া ও হাসপাতাল ভবন যথাযথভাবে হস্তান্তর না করার অনিয়ম হয়।

এ ছাড়া বেজমেন্ট অপরিচ্ছন্ন থাকা, বাস্তবায়নে অতিরিক্ত সময় লাগায় সরকারি অর্থ গচ্চা, অসমাপ্ত রেখেই প্রকল্প সমাপ্ত ও মেডিকেল বর্জ্য অপসারণে সুনির্দিষ্ট স্থাপনা না থাকার ত্রুটিও পাওয়া গেছে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আইএমইডি বলছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই এসব কাজ করা পরিকল্পনা শৃংখলার ব্যত্যয়। এ ছাড়া কাজের ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি এলটিএম (লিমিটেড টেন্ডার মেথড) প্যাকেজের এত সংখ্যা দেখে মনে হয়, এলটিএম করার জন্যই প্যাকেজটি ছোট ছোট আকারে ভাগ করা হয়েছে, যা মোটেও কাক্সিক্ষত নয়। প্রকল্পটির ক্রয় প্রক্রিয়ায়ও স্বচ্ছতার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম মঙ্গলবার  টেলিফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এ প্রকল্পের নিশ্চয় অডিট হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ থাকলে অডিট আপত্তি থাকত। আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটে থাকলে তা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. খাজা আবদুল গফুর  বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। প্রকল্প পরিচালক ভালো বলতে পারবেন।’

সূত্র জানায়, ঢাকার জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৪৭ সালে ২৫০ শয্যার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন করা হয়। কয়েক মাসের মধ্যে শয্যা বাড়িয়ে ৫০০ করা হয়। ১৯৭৩ সালে হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ৫০টিতে উন্নীত করা হয়। ১৯৯৪ সালে ১৪০০ শয্যায় উন্নীত করে সরকার। এরপর ২০০৩ সালে আবারও শয্যা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০০ করা হয়।

এ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ভবন নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র সরবরাহের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৬০০ শয্যা বাড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্বাস্থ্য অধিদফতর।

আইএমইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০১১ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৪ সালের মার্চ মাসে এসে প্রকল্পটি শেষ হয়। এতে অতিরিক্ত সময় লেগেছে ৩৩ মাস এবং অতিরিক্ত গচ্চা গেছে ৪০ কোটি ৪৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ৬০ কোটি টাকা। পরে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ১০৬ কোটি ৯২ লাখ ২৬ হাজার টাকা। খরচ হয়েছে ১০০ কোটি ৪৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।

অনিয়ম প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের অনুকূলে বেজমেন্টসহ ১০ তলা ভিতবিশিষ্ট ১০ তলা ভবন নির্মাণের জন্য সর্বশেষ সংশোধিত এডিপিতে (আরএডিপি) সংস্থান ছিল ৬৮ কোটি ৩১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। এর বিপরীতে চুক্তি অনুমোদিত হয় ৬৩ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ব্যয় হয় ৬২ কোটি ৬৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এ খাতে ৪২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা অবশিষ্ট থাকলেও কিছু কাজ বাকি থেকে যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯টি চুক্তির (এলটিএম) মাধ্যমে ৭ কোটি ৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। এ কাজে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়ে চুক্তিমূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ভৌত নির্মাণ প্যাকেজের আওতায় সোলার সিস্টেম স্থাপন বাবদ ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং বাবদ ১০ লাখ টাকা ও পাম্প স্থাপন বাবদ সাড়ে ৩২ লাখ টাকাসহ মোট ২ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার সংস্থান ছিল। কিন্তু বাস্তবিকভাবে এ তিন উপখাতে কোনো কাজ হয়নি। এ ক্ষেত্রে সংস্থান করা অর্থ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই অন্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি উপ-অংশের অর্থ পুরোপুরি খরচ না হওয়ায় সেই অর্থ অন্য উপ-অংশে ব্যয় করা হয়েছে। যেমন- করিডোর নির্মাণ, গভীর নলকূপ, লিফট স্থাপন ইত্যাদি।

মেডিকেল গ্যাস (অক্সিজেন) বাবদ আরএডিপিতে ৪ কোটি টাকার সংস্থান ছিল। কিন্তু কার্যাদেশ প্রদান করা হয় ২ কোটি ৯৭ লাখ ২৯ হাজার টাকার। পরে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকার ভেরিয়েশন অর্ডারসহ মোট ৪ কোটি ৪২ লাখ ৬৫ হাজার টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করা হয় এবং শতভাগ অর্থ খরচ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৪২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা অনুমোদন ছাড়াই চুক্তি ও ব্যয় হয়েছে।

আইএমইডি বলছে, প্রকল্পের আওতায় মসজিদ সংস্কার কাজের জন্য ৩০ লাখ টাকার সংস্থান ছিল। এর বিপরীতে এলটিএম পদ্ধতিতে ২টি চুক্তির মাধ্যমে ২৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ও ৩৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা অর্থাৎ মোট ৬০ লাখ ৪ হাজার টাকা ব্যয়ে মসজিদ সংস্কার করা হয়। এ ক্ষেত্রে আরএডিপির সংস্থানের চেয়ে ৩০ লাখ ৭ হাজার টাকা বেশি খরচ করা হয়েছে একাধিক কার্যাদেশের মাধ্যমে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালটি ২০১৩ সালের ৩ অক্টোবর উদ্বোধন করা হলেও পরিদর্শনের সময় ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দু’বছরেও হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি।

প্রকল্প পরিচালক ডা. বায়েজিদ খুরশিদ রিয়াজ বর্তমানে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের (নিপসম) পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। ঢামেক হাসপাতাল সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণে কোনো আর্থিক অনিয়ম হয়নি দাবি করে ডা. রিয়াজ বৃহস্পতিবার  বলেন, প্রকল্প শুরুর পর এক বছর বন্ধ ছিল। ঠিকাদার কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে যায়।

এরপর অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) মাধ্যমে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। ৯৫ ভাগ খরচ হয়েছে পিডব্লিউডির (পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট) মাধ্যমে। বাকি ৫ ভাগ প্রকিউরমেন্ট এমএসআর খাতের খরচ ছিল আমার হাতে। তাই আর্থিক অনিয়মের সুযোগ নেই।

এ রকম আর ও খবর



বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  .  জাতীয়  .  স্বাস্থ্য  .  দেশ  .  লাইফস্টাইল  .  ফিচার  .  বিচিত্র  .  আন্তর্জাতিক  .  রাজনীতি  .  শিক্ষাঙ্গন  .  খেলাধুলা  .  আইন-অপরাধ  .  বিনোদন  .  অর্থনীতি  .  প্রবাস  .  ধর্ম-দর্শন  .  কৃষি  .  রাজধানী  .  শিরোনাম  .  চাকরি
Publisher :
Copyright@2014.Developed by
Back to Top