বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮ ০৯:২৪:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না: ডাকসুর সাবেক চারভিপি।সন্তান পেটে রেখেই সেলাই, দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবিসকল সরকারি চাকরি থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের সন্তানদের বরখাস্তের দাবিদি স্টুডেন্ড’স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ঢাকা মহানগরী উত্তরের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন।লেভেল ক্রসিংয়ে কভার্ড ভ্যান, ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ৪বিএনপি নেতা আমান জামিনে মুক্তশ্রীলঙ্কায় মসজিদ ও মুসলমানদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর একের পর এক হামলার পর দেশটিতে ১০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটি।আব্দুল আলিমের সাইবার ক্রাইমআব্দুল আলিমের সাইবার ক্রাইম এখন বইমেলায়রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সিঙ্গাপুরের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি
রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৬, ১০:০৪:৪৯
Zoom In Zoom Out No icon

ঢাকাতেই আছেন সিরাজ উদ-দৌলার বংশধর!

ঢাকাতেই আছেন সিরাজ উদ-দৌলার বংশধর!

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ উদ-দৌলার নবম বংশধর ঢাকায় থাকেন। রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার লেকসিটি কনকর্ড-এর বৈকালী টাওয়ারে বসবাস করছেন তারা। লোকচক্ষুর আড়ালে নীরবে নিভৃতে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের বংশধররা বসবাস করলেও এ খবর অনেকেই জানেন না।

ইরান থেকে আসার পর ১৭৪০ সালে ৬৬ বছর বয়সে বাংলার নবাব হন আলিবর্দী খাঁন। নবাব সিরাজ উদ-দৌলা ছিলেন আলিবর্দি খাঁনের খুবই আদরের নাতি। নবাব সিরাজ উদ-দৌলার জন্ম হয় ১৭৩৩ সালের ২ জুলাই। কারো মতে ১৭২৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। নবাবের মৃত্যু হয় ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২ জুলাই।

১৭৫৬ সালে সিরাজ উদ-দৌলা বাংলার মসনদে বসেন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে সিরাজের পরাজয় এবং ২ জুলাই ঘাতকের হাতে তার প্রাণ হারানোর মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়ে যায় বহুকালের জন্য। ১৭৫৭ সালের ২ জুলাই বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ উদ-দৌলাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

সিরাজের বাবা আবুল হাশেম মুহম্মদ যয়েনউদ্দিন খাঁন ছিলেন বিহারের নবাব ও আলীবর্দি খাঁর বড় ভাই, হাজী আহমেদের ছেলে। সিরাজের মা, আমিনা বেগম ছিলেন নবাব আলীবর্দি খাঁর ছোট মেয়ে। যেহেতু আলীবর্দি খাঁর কোনো ছেলে ছিল না, সেহেতু সিরাজকে নবাব অনেক ভালোবাসতেন। সিরাজের বাল্যকাল থেকেই তাকে মুর্শিদাবাদের উত্তরসুরী হিসেবে দেখা হতো।

ভবিষ্যতের নবাব হিসেবে সিরাজকে নবাবের দুর্গে সব সুযোগ সুবিধা এবং শিক্ষা দেওয়া হয়। ১৭৪৬ সালে সিরাজ তার নানা আলীবর্দিকে, মিরাথাস্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাহায্য করেন। ১৭৫২ সালে, ১৯ বছর বয়সী সিরাজকে তার নানা আলীবর্দি উত্তরসুরী (আলীবর্দির রাজ্যের নবাব) হিসেবে ঘোষিত করেন এবং তার রক্তের অন্য কাউকে তার কোনো সম্পত্তির মালিক করেননি। সিরাজ উদ-দৌলার প্রকৃত নাম মীর্জা মুহম্মদ আলী। সিরাজ উদ-দৌলার আরেক নাম ছিল ‘Sir Roger Dowllet’ বা ‘স্যার রজার দৌলেত’ কারণ, অনেক ইংরেজ তার নাম উচ্চারণ করতে পারতেন না।

ঢাকার সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাধা হয়ে আছে নবাব পরিবারের দুর্দিন, দুঃসময়ের জীবন। সিরাজ উদ-দৌলার মৃত্যুর পর তার প্রিয়তমা স্ত্রী লুৎফুননিসা একমাত্র শিশু কন্যা উম্মে জোহরা, নানা আলীবর্দী খাঁনের স্ত্রী আশরাফুন্নেসা-সহ নবাব পরিবারের নারীদের ৮ বছর বন্দি করে রাখা হয়েছিল বুড়িগঙ্গা পাড়ের জিঞ্জিরা এলাকার একটি প্রাসাদে। স্থানীয় লোকজন ওই জরাজীর্ণ প্রাসাদটিকে এখনও জানে ‘নাগরা’ নামে।


বর্তমানে ঢাকা শহরে বসবাসকারী নবাবের নবম বংশধরদের একজন সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব। তিনি একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। বর্তমানে ড. ফজলুল হক সম্পাদিত সাপ্তাহিক পলাশী পত্রিকার সহ-সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। তার বাবা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ গোলাম মোস্তাফা। তিনি নবাব সিরাজ উদ-দৌলার ৮ম বংশধর। তার প্রয়াত স্ত্রী সৈয়দা হোসনেআরা বেগম ছিলেন নবাবের স্ত্রী লুৎফুননিসার রক্তের উত্তরাধিকারী। খিলক্ষেতের ওই বাসাতেই দুই ছেলে গোলাম আব্বাস আরেব, ইমু ও দুই মেয়ে মাসুমা ও মুনমুনকে নিয়ে তিনি থাকেন।

নবাব পরিবারের নবম বংশধর সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেবের পূর্ববর্তী বংশধরের কুষ্ঠি বিশ্লেষণ করে জানা যায়-

(১) নবাব সিরাজউদ্দৌলার মেয়ে উম্মে জোহরা ওরফে কুদসিয়া বেগম (প্রথম বংশধর),

(২) জোহরার ছেলে শমসের আলী খান (দ্বিতীয় বংশধর),

(৩) তার ছেলে লুৎফে আলী (তৃতীয় বংশধর),

(৪) লুৎফের মেয়ে ফাতেমা বেগম (চতুর্থ বংশধর),

(৫) তার মেয়ে হাসমত আরা বেগম (পঞ্চম বংশধর),

(৬) হাসমত আরার ছেলে সৈয়দ জাকি রেজা (ষষ্ঠ বংশধর),

(৭) তার ছেলে সৈয়দ গোলাম মোর্তজা (সপ্তম বংশধর)

(৮) তার ছেলে সৈয়দ গোলাম মোস্তফা (অষ্টম বংশধর)

এবং (৯) তার ছেলে সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব (নবম বংশধর)।

কীভাবে তারা নবাব সিরাজ উদ-দৌলার বংশধর? বংশতালিকার সে হিসাব দিলেন গোলাম আব্বাস আরেব। ইরান থেকে ভাগ্য অন্বেষণে বাংলায় আসা নবাব আলীবর্দী খানের কোনো ছেলে সন্তান ছিল না। তার ছিল ৩ কন্যা। ঘসেটি বেগম, ময়মুনা বেগম ও আমেনা বেগম। আলীবর্দী খানের বড় ভাই হাজী মির্জা আহমেদের ছিল ৩ পুত্র। মুহাম্মদ রেজা, মুহাম্মদ সাঈদ ও মুহাম্মদ জয়েনউদ্দিন। আলীবর্দী খানের ৩ কন্যাকে বিয়ে দেন তার ভাই হাজী আহমেদের ৩ পুত্রের সঙ্গে। মুহাম্মদ রেজার সঙ্গে বিয়ে দেন ঘসেটি বেগমের। মুহাম্মদ সাঈদের সঙ্গে ময়মুনা বেগমের এবং আমেনা বেগমের বিয়ে দেন জয়েনউদ্দিনের সঙ্গে। জয়েনউদ্দিন ও আমেনা বেগমের ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে। তাদের বড় সন্তান নবাব সিরাজ উদ-দৌলা, অপর ২ ছেলে হলেন একরামউদদৌলা ও মির্জা মেহেদি। ২ কন্যা আসমাতুন নেসা ও খায়রুন নেসা।

নবাব সিরাজ উদ-দৌলা বিয়ে করেন ইরাজ খানের কন্যা লুৎফুননিসাকে। ইরাজ খানের পূর্বপুরুষরা ছিলেন মোঘল দরবারের কর্মকর্তা। সিরাজ উদ-দৌলার একমাত্র কন্যা উম্মে জহুরা বেগম। সিরাজ উদ-দৌলার যখন মৃত্যু হয় তখন উম্মে জহুরা শিশু। সিরাজ কন্যা জহুরা বেগমের বিয়ে হয় সিরাজের ভাই একরামউদদৌলার পুত্র মুরাদউদদৌলার সঙ্গে। তাদের একমাত্র পুত্র শমসের আলী। তার পুত্র সৈয়দ লুৎফে আলী। তার কোনো ছেলে সন্তান ছিল না। তার একমাত্র কন্যা ফাতেমা বেগম। ফাতেমা বেগমের ২ কন্যা হাসমত আরা বেগম ও লুৎফুননিসা বেগম। লুৎফুননিসা নিঃসন্তান। হাসমত আরার ছেলে সৈয়দ জাকির রেজা। তার ছেলে সৈয়দ গোলাম মর্তুজা। সৈয়দ গোলাম মর্তুজার ছেলে এই সৈয়দ গোলাম মোস্তফা।

২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে পরাজয়ের পর ২৫ জুন নবাব সিরাজ উদ-দৌলা স্ত্রী লুৎফুননিসা ও শিশুকন্যা জহুরা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে আবার সৈন্য সংগ্রহ করে বাংলা উদ্ধার করতে বিহারের উদ্দেশে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে ভগবানগোলায় ক্ষুধার্ত নবাব পরিবার দানা শাহ নামের এক লোকের বাড়িতে খাদ্য গ্রহণকালে ওই ব্যক্তি মুর্শিদাবাদে খবর দিয়ে ধরিয়ে দেন নবাব সিরাজ উদ-দৌলাকে। সেখানে গিয়ে মীর জাফরের ছেলে মিরন গ্রেপ্তার করে মুর্শিদাবাদে নিয়ে যান নবাবকে। বন্দি অবস্থায় ২ জুলাই মোহাম্মদী বেগ হত্যা করে নবাবকে।

নবাবকে হত্যার পর তার স্ত্রী শিশুকন্যাসহ নানা আলীবর্দী খাঁর স্ত্রী আশরাফুন নেসাকে নৌকায় করে ভাগীরথীর তীর থেকে বুড়িগঙ্গার পাড়ে জিঞ্জিরার একটি প্রাসাদে তাদের আটকে রাখা হয় ৮ বছর। সেখান থেকে আবার তাদের মুর্শিদাবাদে নিয়ে মুক্ত করা হয়। নবাব সিরাজ উদ-দৌলার মৃত্যুর পর থেকে তার ৫ম বংশধর পর্যন্ত কাউকে সরকারি কোনো চাকরি দেয়নি ব্রিটিশ সরকার।

নবাবের ৬ষ্ঠ বংশধর সৈয়দ জাকি রেজা ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহর কাছে এসে ধরনা দিলে ১৯১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলার গভর্নরের কাছে তাকে একটি চাকরি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে চিঠি লেখেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তিনি সিরাজ উদ-দৌলার বংশধর। সে অনুরোধের প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার সৈয়দ জাকি রেজাকে মুর্শিদাবাদের ডেপুটি সাব-রেজিস্টার পদে নিয়োগ দেন। তার পুত্র সৈয়দ গোলাম মর্তুজা চাকরি করতেন মুর্শিদাবাদের কালেক্টরেট বিভাগে।

সপ্তম বংশধর সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ১৯৪৭ সালে মুর্শিদাবাদ থেকে পূর্ব বাংলায় চলে যান। প্রথমে যান রাজশাহীতে, রাজশাহী থেকে খুলনা শহরে একটি বাড়ি কিনে স্থায়ী হন।

১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথিতযশা সাংবাদিক ফজলে লোহানী তার জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান (বিটিভি-তে প্রচারিত) ‘যদি কিছু মনে না করেন’-এ সৈয়দ গোলাম মুর্তজা-কে পরিচিত করিয়ে দেন। গোলাম মর্তুজার ছেলে সৈয়দ গোলাম মোস্তাফা পাকিস্তান আমলে চাকরি নেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে। তিনি এখন ছেলে সন্তানসহ বসবাস করছেন ঢাকা শহরে।

তার বড় ছেলে সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব সমাজের গুণীজন, বিত্তবানসহ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তারা নবাব সিরাজ উদ-দৌলার নামে একটি একাডেমি স্থাপন করতে চান। সে জন্য সহযোগিতার প্রয়োজন। ঢাকা শহরে বসবাস করা নবাব সিরাজ উদ-দৌলার বংশধরদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে- এখনও এক ধরনের অজানা আতঙ্ক তাদের মাঝে। সম্ভবত সে আতঙ্ক থেকেই প্রচারবিমুখ হয়ে আছেন তারা। মিডিয়াকে এড়িয়ে চলেন, সমাজে নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রাখেন।

 

এ রকম আর ও খবর



বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  .  জাতীয়  .  স্বাস্থ্য  .  দেশ  .  লাইফস্টাইল  .  ফিচার  .  বিচিত্র  .  আন্তর্জাতিক  .  রাজনীতি  .  শিক্ষাঙ্গন  .  খেলাধুলা  .  আইন-অপরাধ  .  বিনোদন  .  অর্থনীতি  .  প্রবাস  .  ধর্ম-দর্শন  .  কৃষি  .  রাজধানী  .  শিরোনাম  .  চাকরি
Publisher :
Copyright@2014.Developed by
Back to Top