বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ ১২:৫১:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন মাহাথিরবজ্রপাতে মৃত্যু থেকে রক্ষা পেতে হলে করনীয় কি ?পটুয়াখালীর তরুণের চালকবিহীন গাড়ি আবিষ্কার স্পেনে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষনাতাবলিগ জামাতের সাদ পন্থী ও তার বিরোধী গ্রুপের সংঘর্ষডিইউজে নির্বাচনে গনি - শহিদ পরিষদের অবিস্মরনীয় জয়কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না: ডাকসুর সাবেক চারভিপি।সন্তান পেটে রেখেই সেলাই, দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবিসকল সরকারি চাকরি থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের সন্তানদের বরখাস্তের দাবিদি স্টুডেন্ড’স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ঢাকা মহানগরী উত্তরের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন।
শুক্রবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১০:৪৩:২৯
Zoom In Zoom Out No icon

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ও মুক্তচিন্তা?

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ও মুক্তচিন্তা?

ডেস্ক রিপোর্ট: ২২ আগস্ট মন্ত্রিসভা ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট-২০১৬’ শীর্ষক একটি খসড়া আইনের অনুমোদন দিয়েছে। এ আইনের একটি অংশে জাতির পিতা এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিকৃত তথ্য প্রকাশের বিরুদ্ধে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে নেতিবাচক অপপ্রচারের জন্য শাস্তির প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া আদালত দ্বারা স্বীকৃত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে কোনো তথ্য কেউ বিকৃত করলে একই ধরনের সাজার বিধান এতে সন্নিবেশিত হয়েছে।

খসড়া আইনের ১৫(৫) ধারায় বলা হয়েছে, “কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা বিদেশী নাগরিক যদি ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা আদালত কর্তৃক মীমাংসিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিষয়াবলী বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে কোন অবমাননাকর মন্তব্য, প্রচার বা অপপ্রচারে লিপ্ত হয় বা সেটাতে মদদ প্রদান করে; তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা বিদেশী নাগরিক ডিজিটাল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনের অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।”

এ ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তি তিন বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

পুরো আইনের এই অংশটা অনেক প্রতীক্ষিত দাবি এবং বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সংগঠনের প্রচারাভিযানের ফল; যে প্রচারাভিযানে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার ইতিহাস তুলে ধরার সঙ্গে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ। তবে আমাদের দুর্ভাগা এ দেশে অন্য যে কোনো ইস্যুর মতোই এ আইন প্রণয়নের বিরুদ্ধেও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

সমালোচকদের সমালোচনা মূলত দুটি বিষয় নিয়ে: প্রথমত, এটা মুক্ত চিন্তার স্বাধীনতাকে খর্ব করবে এবং এর ফলে আমাদের ইতিহাসের ওপর গবেষণা সীমিত করবে; দ্বিতীয়ত, আইনটি অপ্রয়োজনীয়, যেহেতু কেউই আমাদের সত্যিকার ইতিহাস বিকৃত এবং বঙ্গবন্ধুকে হেয় করতে পারবে না।

মুক্ত চিন্তা বা বাকস্বাধীনতা নিঃসন্দেহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা। এটা জনস্বার্থে জনগণে মধ্যে বিভিন্ন এবং বৈচিত্র্যময় মতামত পরিবেশনে উৎসাহ দেয়। কিন্তু সব ধরনের স্বাধীনতার মতো বাকস্বাধীনতাও শর্তহীন নয় এবং সেটা হওয়া উচিতও নয়।

বাকস্বাধীনতা একদিকে অন্য কারো প্রতি ঘৃণা প্রকাশের সম্ভাব্য অস্থিতিশীল প্রভাব থেকে মুক্ত হতে হবে এবং অন্যদিকে অন্যের আবেগ বা অনুভূতিকে যেন আঘাত না করে সে ধরনের সামঞ্জস্যপূর্ণ করা আবশ্যক। কানাডিয়ান বিচারপতি এম এ বাইন্ডারের ভাষায়–

“মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্যের কাছে আত্মসমর্পণ করবে।”

বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা নেই বলে যারা চিৎকার করেন তারা কি জানেন পৃথিবীর কোনো প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক দেশে সে দেশের স্বীকৃত ইতিহাস নিয়ে এ ধরনের বল্‌গাহীন বক্তব্য দিয়ে রাজনীতি করা যায় কি না?

গত বছর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বীকৃত (অফিসিয়াল) শহীদের সংখ্যা চ্যালেঞ্জ করে ইতিহাসকে অবমাননার অপরাধে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে দোষী সাব্যস্ত করেন। মাননীয় বিচারক বার্গম্যানের ২০১১ সালের একটি ব্লগ পোস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। ২০১১ সালের নভেম্বরের ওই পোস্টে তিনি সেখানে শহীদের সংখ্যা অনেক কম বলে মতামত দেন এবং সরকারি সংখ্যার সমর্থনে কোনো প্রমাণ নেই বলে উল্লেখ করেন।

ট্রাইব্যুনালের প্রিজাইডিং বিচারক ওবায়দুল হাসান ডেভিড বার্গম্যানকে দোষী সাব্যস্ত করে দেওয়া তাঁর রায়ে বলেন–

“মত প্রকাশের স্বাধীনতা সরল বিশ্বাসে এবং জনস্বার্থে প্রয়োগ করা যেতে পারে। ডেভিড বার্গম্যানের তন্নতন্ন করে খুঁজে এ সংখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করার পিছনে সরল বিশ্বাস ছিল না এবং এটা তিনি জনস্বার্থ রক্ষার জন্য করেননি।”

ট্রাইব্যুনাল পুনর্ব্যক্ত করেন, “মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদের সংখ্যা ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং এটা বাংলাদেশের জনগণের ‘আবেগের সাথে জড়িত।’” এ ছাড়াও ট্রাইব্যুনাল এই সংখ্যা (৩০ লক্ষ) আগে আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। মাননীয় বিচারক বলেন–

“যে কেউ এই গবেষণা করতে পারেন কিন্তু তাদের ট্রাইব্যুনালের মর্যাদা আঘাত হতে পারে এমন ধরনের কোনো মন্তব্য করার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।”

মুক্তিযুদ্ধের নয়টি মাসের গণহত্যা, সশস্ত্র সংগ্রাম এবং অবর্ণনীয় কষ্টের সময়ে তাঁর নাম লক্ষকোটি হৃদয়ে রাতদিন ছিল সমুজ্জ্বল

খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করার পরের দিনই এক বিএনপিপন্থী ‘বুদ্ধিজীবী’ এক সেমিনারে বলেন, “৭১ সালে আওয়ামী লীগ আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। হিস্ট্রি এটাই। আপনি যতই ইতিহাস লেখেন আর আদালতের রায় দেন কিন্তু তাতে কোনো কাজ হবে না। কারণ, শেখ মুজিবুর রহমান তখন গ্রেপ্তার হয়ে পাকিস্তানের কারাগারে। তিনি যুদ্ধের নেতৃত্ব দেননি।”

প্রাক্তন চীনপন্থী এই ভদ্রলোক মুক্তিযুদ্ধ করেছেন– সেটা আমার মতো অনেকেরই জানা ছিল না। তার ‘আদর্শের’ লোকেরা তখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে “দুই কুকরের লড়াই” হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। এ ধরনের অর্বাচীন প্রগলভতা কি মুক্তচিন্তা-গবেষণার ফসল? এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন প্রাণীদের মুক্তচিন্তা দিয়ে সত্য আবিস্কার খর্ব করাকে নিয়েই কি আইনের সমালোচকরা শঙ্কিত?

এসব ‘তথ্য-সন্ত্রাসীদের’ শায়েস্তা করার তিনটি পথ আছে। এক. মধ্যযুগীয় পন্থা; দুই. পাগলা গারদে প্রেরণ; এবং তিন. আইনের মাধ্যমে শাস্তি।

মুক্তিযুদ্ধ যারা হৃদয়ে ধারণ করেন তাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিকৃত তথ্য প্রকাশের বিরুদ্ধে আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। কিছু ‘সুশীল’ মহোদয় এ আইনের সমালোচনায় নেমেছেন। আমার প্রশ্ন আইনের মাধ্যমে শাস্তি না দিয়ে প্রথম বা দ্বিতীয় পন্থা নিলে কি তারা খুশি হবেন?

আমাদের ইতিহাস এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এ ধরনের অমার্জনীয় মিথ্যার ফুলঝুরি ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসের সেই কালোরাত থেকে চালু করা হয়েছে। দীর্ঘ ২১ বছর ধরে বঙ্গবন্ধুকে তাঁর নিজের সৃষ্ট ইতিহাস থেকে নির্বাসিত করা হয় এবং তিনি ছিলেন দেশে একটি ডি-ফ্যাক্টো নিষিদ্ধ নাম।

বিএনপি চেয়ারপারসন গত ডিসেম্বর বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। বলা হয়, এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে, আসলে কত শহীদ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে। শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।”

হ্যাঁ, এ কথা বলেছেন সেই নারী যিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানের ক্যানটনমেন্টে অবস্থান করছিলেন এবং খুব সম্ভবত তিনি পাকিস্তান ভাঙার জ্বালা তিনি এখনও ভুলতে পারেননি!

খালেদা জিয়া এ মন্তব্য গত বছরের নভেম্বরে ‘পাকিস্তান সেনাবাহিনী নয় মাসের যুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশে কোনো গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ বা নৃশংসতা ঘটায়নি’ বলে পাকিস্তানের অস্বীকৃতি এবং ’৭১ সালের শহীদদের সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ।

এর পরপরই খালেদা জিয়ার এক সাঙ্গাত শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বললেন ‘নির্বোধ’ এবং আর একজন বললেন, “যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতির মাঝে উপস্থিতই ছিলেন না তাঁকে বানানো হয়েছে জাতির পিতা।”

এ ধরনের মুক্তচিন্তাবিদ-গবেষকদের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা খর্ব করা নিয়েই কি প্রস্তাবিত আইনের সমালোচকরা শঙ্কিত?

গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সাজার পর আদালতে তিনি যে চরম অভদ্রতার প্রকাশ ঘটান এবং ৫০ জন তথাকথিত বুদ্ধিজীবীর বিবৃতিতে প্রায় সব স্বাক্ষরদাতাই বার্গম্যানের ব্লগে কীভাবে আমাদের শহীদের সংখ্যা নিয়ে তাচ্ছিল্য করা হয়েছে, তিনি কীভাবে ট্রাইব্যুনালকে উপদেশ দিয়েছেন, তাদের কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয় (ভাবখানা এমন যে বাংলাদেশ এখনও ব্রিটিশ কলোনি) এবং বার্গম্যানের সাজার রায় না পড়ে এবং সেটা বিন্দুমাত্র না জেনেই ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার’ সপক্ষে বিবৃতি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। এবং ইউরোপের ১৪টি দেশে ‘হলোকাস্ট অস্বীকারের বিরুদ্ধে আইন’-এর মতো ‘গণহত্যা অস্বীকারের বিরুদ্ধে আইন’ প্রণয়নের দাবি ওঠে।

হলোকাস্ট অস্বীকার সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী নাৎসি জার্মানির ইউরোপে সুপরিকল্পিত জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লাখ লাখ মানুষ হত্যার বিষয়টি অস্বীকার করা আইনের লঙ্ঘন। অনেক দেশে গণহত্যা অস্বীকারকে অপরাধ গণ্য করে বৃহত্তর আইন হয়েছে।

অনুরূপভাবে, মিসেস জিয়ার এবং তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদের অর্বাচীন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাপরাধের গবেষক এবং যুদ্ধে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সংগঠন, যুদ্ধাপরাধ প্রসিকিউটর এবং বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সংস্থাগুলোর তরফে মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা আদালত কর্তৃক মীমাংসিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিষয়াবলী বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে কোনো অবমাননাকর মন্তব্য নিরোধে শাস্তির বিধান করে একটি আইন প্রণয়নের পক্ষে আরও জোরাল দাবি ওঠে।

কিছু মানুষ বাকস্বাধীনতার নামে, কোনো এক বিশেষ উদ্দেশ্যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে। তারা এক অসৎ উদ্দেশ্যে আমাদের ত্যাগ এবং উৎসর্গকে লঘূকরণের অপচেষ্টায় লিপ্ত এবং অনেক ক্ষেত্রে সুচতুরভাবে আমাদের জনগণের উপর সংগঠিত অপরাধকে যৌক্তিকতা দানের প্রয়াসে তৎপর।

সবচেয়ে প্রচারিত হলোকস্ট অস্বীকার বিচারটি অনুষ্ঠিত হয় ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রিয়ায়। এক অস্ট্রীয় আদালত ব্রিটিশ লেখক ডেভিড আরভিংকে দোষী সাব্যস্ত করেন যিনি অস্বীকার করে লিখছিলেন যে Auschwitz এবং অন্যান্য কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে যারা মারা গেছে তাদের অধিকাংশকেই হত্যা করা হয়নি; তারা বিভিন্ন রোগে মৃত্যুবরণ করেছে। তিনি ছয় মিলিয়ন ইহুদি নিহত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করতেন।

মাত্র এক দিনের শুনানি শেষে আরভিংকে তিন বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। যদিও তিনি তার আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন, যেখানে তিনি গ্যাস চেম্বারের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে চলেছিলেন।

সম্প্রতি দুই দোষী সাব্যস্ত যুদ্ধাপরাধীর পুত্ররা, যারা তাদের পিতাদের রাজনৈতিক শিষ্য, বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছে। এমনকী সাকা চৌধুরির মতো চরম ঘৃণিত যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি হওয়ার পর বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে তার মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিক শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

উন্নত বিশ্বের কোনো দেশে এমন কোনো একটি পরিস্থিতি বা ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের জন্য তা হত নিজের কবর খনন করার সামিল।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবোধ সৃষ্টির প্রধান শক্তি এবং আত্মা। যে কেউ দেশে এবং বিদেশে, মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস সময়ে স্বাধীনতার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য যা কিছু করেছেন, এটা তাঁর নাম আবাহন করেই করা হয়েছে। তিনিই একমাত্র মানুষ যিনি জাতিকে একত্রিত করে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলেন যেটা অতীতে কিংবা তার পরে কেউই করতে পারেননি।

মুক্তিযুদ্ধের নয়টি মাসের গণহত্যা, সশস্ত্র সংগ্রাম এবং অবর্ণনীয় কষ্টের সময়ে তাঁর নাম লক্ষকোটি হৃদয়ে রাতদিন ছিল সমুজ্জ্বল।

ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়কে স্মরণ একটা জাতির নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের জন্য একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত। এ গৌরবময় ইতিহাস ব্যবহার হতে পারত জাতিকে তার মিলনস্থলে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বানবাণী সৃষ্টিতে। তার বিপরীতে ইতিহাসকে বিকৃত করে ঈপ্সিত এবং লালিত জাতীয় ঐক্যের স্বপ্ন রয়ে গেছে এক বিভ্রমে।

একবার আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক প্রয়াত লি কুয়ান ইউকে প্রশ্ন করা হয়েছিল আপনার দেশে এত কঠিন আইন কেন? তাঁর উত্তর ছিল–

“বিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যখন কোন জনগোষ্ঠী সভ্য আর দায়িত্বশীল হতে ব্যর্থ হয় তখন সেটা আইনের মাধ্যমে করতে হয়।”

বস্তুত, কঠোর আইন দিয়ে মানুষকে সভ্য আর দায়িত্বশীল বানানোর কারণেই তাঁর দেশটি আজ আমাদের বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাসযোগ্য ভূমিতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশের হাইকোর্ট ২০০৯ সালের ২০ জুন এক যুগসন্ধিক্ষণ রায়ে– যেটাতে বঙ্গবন্ধুই যে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন– সেটা আইনগতভাবে সুনিশ্চিত করেন। মহামান্য হাইকোর্ট অধিকন্তু উল্লেখ করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের একটি অসত্য সংস্করণ প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টায় জড়িতদের সরকার বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে পারে।

হাইকোর্র মাননীয় বিচারপতিদের মতে, ইতিহাসকে নিয়ে কাল্পনিক এবং অসত্য প্রচার জাতি ও সংবিধানের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

খসড়া নিরাপত্তা আইনটি জনমানুষের ঈপ্সিত দাবি মেনে নেওয়া ছাড়াও, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ব্যবহারের অজুহাতে আমাদের গৌরবময় ইতিহাস এবং সে ইতিহাস সৃষ্টির ‘রাখাল রাজা’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ঘৃণ্য ও মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত ব্যক্তিদের মোকাবিলা করতে আদালতের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ।

সূত্র: বিডিনিউজ

এ রকম আর ও খবর



বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  .  জাতীয়  .  স্বাস্থ্য  .  দেশ  .  লাইফস্টাইল  .  ফিচার  .  বিচিত্র  .  আন্তর্জাতিক  .  রাজনীতি  .  শিক্ষাঙ্গন  .  খেলাধুলা  .  আইন-অপরাধ  .  বিনোদন  .  অর্থনীতি  .  প্রবাস  .  ধর্ম-দর্শন  .  কৃষি  .  রাজধানী  .  শিরোনাম  .  চাকরি
Publisher :
Copyright@2014.Developed by
Back to Top