বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৭ ০৭:০৭:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৭, ১২:৫৭:২৮
Zoom In Zoom Out No icon

রাখাইনের দক্ষিণ অঞ্চলে অবরুদ্ধ লাখো রোহিঙ্গা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ১১৮টি রোহিঙ্গা গ্রামে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন রোহিঙ্গারা। উত্তর রাখাইনের ৪৭৯ গ্রাম যখন সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের সহিংসতার আগুনে পুড়ছিলো এবং জাতিগত নিধন ও গণহত্যার শিকার হচ্ছিলো, তখনও দক্ষিণ রাখাইনের এ ১১৮ গ্রাম ছিলো তুলনামূলক শান্ত ও কম ক্ষতিগ্রস্ত।

এসব গ্রামের ধনী রোহিঙ্গারা তাদের গ্রামগুলো রক্ষা করতে কোটি কোটি টাকা সেনাবাহিনীর পেছনে ব্যয় করেও শেষ রক্ষা করতে পারছেন না। মাসাধিক সময় ধরে উগ্র বৌদ্ধদের হাতে অবরুদ্ধ থেকে এখন তারা বাংলাদেশের পথ ধরছেন রাতের আঁধারে। ওই এলাকা থেকে গত এক সপ্তাহে ৫০ হাজারের মতো মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা বলছে, এসব এলাকার প্রায় তিন লাখ মানুষ এখন বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অপেক্ষায় আছেন।

অনেকেই ১২ থেকে ১৪ দিন টানা হেঁটে বাংলাদেশ সীমান্তে এসে সীতা পাহাড়, নাইক্ষ্যংদিয়ার দ্বীপ ও পাশের অন্যান্য সমুদ্র পাড়ে জড়ো হচ্ছেন। কিন্তু নৌযানের অভাবে তারা বাংলাদেশে আসতে পারছেন না। দক্ষিণ রাখাইনের সেন্ডওয়ে, রাচিডং ও বুচিডংসহ ১২টি টাউনশিপ এলাকায় অক্টোবরের শুরু থেকে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ।

এ অঞ্চলের ৩ লাখের মতো মানুষ এক মাস ধরে নিজ বাড়িতে বন্দি অবস্থায় আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বাড়িতে থাকা নিত্যপণ্যের মজুদ শেষ হওয়ায় অমানবিক জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন। জাতিসংঘ বলছে, এসব এলাকায় বড় ধরনের সহিংসতার খবর না থাকলেও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা থেমে নেই। রাখাইন থেকে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসা থামছে না।

এ পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া রাজ্যটি থেকে বাংলাদেশে আরও বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার ঢল নামতে পারে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের (ওসিএইচএ) আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মুখপাত্র জোয়েল মিলম্যান জানিয়েছেন, রাখাইন থেকে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে কোনোকেনো দিন এ সংখ্যা ১০ হাজারও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

রাচিডংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান হাজি ওসমান টেলিফোনে বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে (ডব্লিউএফপি) গ্রামটিতে খাবার সরবরাহ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে খাবারের সংকটে ওই এলাকার লোকজনের বাংলাদেশে চলে যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, কেবল খাবার সরবরাহ বন্ধই নয়, রোহিঙ্গাদের বাড়ির বাইরে যেতেও দেওয়া হচ্ছে না। আবার প্রতিরাতে বাড়িতে এসে জোয়ান মেয়েদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

প্রতিটি গ্রাম থেকে সেনাবাহিনী আটক করে নিয়ে যাচ্ছে ২/৪ জন যুবককে। এ অবস্থায় সবাই রাতের আঁধারে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু মাসাধিককাল ধরে অনাহারে, অর্ধাহারে থাকা মানুষগুলো শারীরিক ও মানসিকভাবে এতোটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে, ১২/ ১৪ দিনের টানা হাঁটার পথ পাড়ি দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেকেই রাস্তায় মারা যাচ্ছেন বলেও খবর মিলছে। মঙ্গলবারই মিয়ানমারের মংডু নুরুল্যাপাড়া থেকে বাংলাদেশে আসা কেফায়েত উল্লাহ বলেন, আমরা এখন আর মিয়ানমারে থাকতে পারছিনা।

মাসেরও বেশি সময় ধরে আমাদের গ্রামগুলো মগরা অবরুদ্ধ করে রেখেছে। দিনের বেলায় তারাই অস্ত্র হাতে গ্রামে টহল দিচ্ছে। এদিকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ বলছে, ২০১২ সাল থেকে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের নামে রাখাইন যুবকদের সশস্ত্র করার যে পরিকল্পনা মিয়ানমার সরকার করেছিল তা ছিলো দীর্ঘ পরিকল্পনার ফল।

এবারের সহিংসতায় সেটাকে কাজে লাগিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। প্রতিটি গ্রামে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, গণহত্যা ও গণধর্ষণে নেতৃত্ব দিয়েছে মগ যুবকদের নিয়ে গঠন করা এ কমিউনটি পুলিশের সশস্ত্র মগ যুবকরা।

মিয়ানমারের একজন রাজনৈতিক নেতা জাফর আলম বলেন, দক্ষিণ রাখাইনের মানুষ অবরুদ্ধ অবস্থায় না খেয়ে মরছে। আবার বাংলাদেশে আসার সময় তারা মরছে সাগরে ডুবে। এটাই এখন রোহিঙ্গাদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এ রকম আর ও খবর



বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  .  জাতীয়  .  স্বাস্থ্য  .  দেশ  .  লাইফস্টাইল  .  ফিচার  .  বিচিত্র  .  আন্তর্জাতিক  .  রাজনীতি  .  শিক্ষাঙ্গন  .  খেলাধুলা  .  আইন-অপরাধ  .  বিনোদন  .  অর্থনীতি  .  প্রবাস  .  ধর্ম-দর্শন  .  কৃষি  .  রাজধানী  .  শিরোনাম  .  চাকরি
Publisher :
Copyright@2014.Developed by
Back to Top