শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ১২:২৪:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সোমবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৬:০২:৪৫
Zoom In Zoom Out No icon

সংশয় রেখেই প্রত্যাবাসন চুক্তি

সংশয় রেখেই প্রত্যাবাসন চুক্তি

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সংশয় রেখেই চূড়ান্ত হচ্ছে প্রত্যাবাসন চুক্তি। আজ মিয়ানমারের নেপিদোয় প্রত্যাবাসনবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক হবে। এ বৈঠকে প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট বা মাঠপর্যায়ের চূড়ান্ত চুক্তি করবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। এ ছাড়া এ বৈঠকে প্রাথমিকভাবে প্রত্যাবাসনে ১ লাখ রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করবে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন। দুই দেশের ১৫ জন করে মোট ৩০ সদস্যের সমন্বয়ে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব ওয়ার্কিং গ্রুপে নিজ নিজ দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হবে। মিয়ানমারের ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের যেন দীর্ঘ সময় থাকতে না হয়, তা নিশ্চিতের জন্য ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্টে উল্লেখ থাকবে। সেই সঙ্গে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া, প্রত্যাবাসন সময়কাল, যানবাহন এবং যাতায়াতব্যবস্থা, আমন্ত্রণ প্রক্রিয়া, যোগাযোগসহ অন্য বিষয়ও উল্লেখ থাকবে। বাংলাদেশের ক্যাম্প থেকে তারাই মিয়ানমারের ক্যাম্পে যাবেন, যারা স্বেচ্ছায় যেতে ইচ্ছুক। এ নিয়ে ইতোমধ্যে খসড়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বারবার মত বদলের কারণে এ মাসের ২২ তারিখের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া মাঠপর্যায়ে শুরুর বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা রয়েছে। তা ছাড়া একতরফাভাবে প্রথমে বাস্তুচ্যুত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন গ্রহণে মিয়ানমারের আগাম ঘোষণা নতুন জটিলতা তৈরি করেছে। সংকটের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দ্বিপক্ষীয় কোনো বৈঠকেই হিন্দু সম্প্রদায়কে আলাদাভাবে প্রত্যাবাসনের আলোচনা হয়নি। তা ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়কে আগে প্রত্যাবাসন করা হবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশকে জানানো হয়নি।
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফরম পাঠায় মিয়ানমার। ফরমে লিখিত শর্তানুযায়ী তালিকা করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অবশ্য মিয়ানমার বলছে, যারা ফিরে আসতে চাইবে, তাদের অবশ্যই মিয়ানমারের বাসিন্দা হিসেবে প্রমাণ দিতে হবে। যদি তাদের কোনো কাগজপত্র না থাকে, তবে তাদের ফরম পূরণ করতে হবে। ফরমে ছবি, নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা তুলে ধরতে হবে। এসব তথ্য নেওয়ার পর তাদের কাছে থাকা তথ্য যাচাই করা হবে। তার পর ফিরিয়ে নেওয়া হবে। যদি রোহিঙ্গারা আমাদের সব চাহিদা পূরণ করতে পারে তবেই ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

মিয়ানমার জানিয়েছে, ৯ অক্টোবর ২০১৬-এর পর থেকে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে গেছে, তাদের অবশ্যই মিয়ানমারের বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ দিতে হবে। ৯ অক্টোবরের পর যে মিয়ানমার ছেড়েছে, তারও প্রমাণ দিতে হবে। রাখাইন রাজ্যে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ রোহিঙ্গা এক কাপড়েই পালিয়ে এসেছে। অনেকের কাছে নাগরিকত্ব প্রমাণ দেওয়ার মতো কোনো তথ্য কাছে নেই। বিষয়টি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বাধা হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারে দায়িত্ব পালনকারী মেজর জে. (অব) অনুপ কুমার চাকমা বলেন, এ ক্ষেত্রে উচ্চারণগত নাম বিভ্রাটের সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি জটিল। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে, মিয়ানমার সেনাপ্রধান রাখাইনে গণহত্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। এ স্বীকারোক্তিকে অং সান সু চি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেন। এদিকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে কাজ শুরু করেছে মিয়ানমার সরকার। সে লক্ষ্যে রাখাইন রাজ্যের মংডুতে সাময়িক আশ্রয়ের জন্য ৭ জানুয়ারি থেকে বসত নির্মাণ শুরু হয়েছে। মিয়ানমার অভিবাসন বিভাগের প্রধান জানান, বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন ১৫০ জন করে ফেরত নেওয়া হবে। তবে তিনি প্রত্যাবাসন শুরুর সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করেননি। গত আগস্টে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা দেশটি থেকে পালিয়ে আসে। এদিকে আগে থেকেই তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ছিল।

এ রকম আর ও খবর



বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  .  জাতীয়  .  স্বাস্থ্য  .  দেশ  .  লাইফস্টাইল  .  ফিচার  .  বিচিত্র  .  আন্তর্জাতিক  .  রাজনীতি  .  শিক্ষাঙ্গন  .  খেলাধুলা  .  আইন-অপরাধ  .  বিনোদন  .  অর্থনীতি  .  প্রবাস  .  ধর্ম-দর্শন  .  কৃষি  .  রাজধানী  .  শিরোনাম  .  চাকরি
Publisher :
Copyright@2014.Developed by
Back to Top