শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ ১২:৪০:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শনিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৮, ০১:১৭:৫৯
Zoom In Zoom Out No icon

সরকারেরর কড়া নজরদারিতে তারেক রহমান গতিবিধির খবর দিচ্ছে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি !

সরকারেরর কড়া নজরদারিতে তারেক রহমান  গতিবিধির খবর দিচ্ছে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি !

 

শনিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৮
বিশেষ প্রতিনিধি, লন্ডন (যুক্তরাজ্য) থেকে : লন্ডনে বসবাসরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কড়া নজরদারিতে রেখেছে আওয়ামীলীগ সরকার। সেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও দলীয় মাধ্যমে তারেক রহমানের প্রতিদিনের গতিবিধি, কর্মকান্ড ও চলাচলের খবর নেয়া হচ্ছে। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সবকিছু মনিটরিং করা হচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়,সরকারের প্রধান সোর্স ছাত্রলীগের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি মাহবুবা নাজরিন জেবিন । তিনি তারেক রহমানের নিয়মিত বাসায় যাতায়াত ও অবস্থান করে গতিবিধি,কর্মকান্ড ও চলাচলের খবর দিচ্ছে। এমনকি ক্ষুদ্রাকার অডিও-ভিডিও ডিভাইসের মাধ্যমে জেবিন অনেক কিছু ধারণ করে ঢাকায় পাঠাচ্ছেন নিয়মিত। তাকে তদারকী করছেন লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডিফেন্স উপদেস্টা একেএম আমিনুল হক। আমিনুল হক ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীমের ভাই । 


এই কর্মকান্ডের জন্য জেবিনকে প্রতিমাসে বড় অংকের টাকা প্রদান করা হচ্ছে। জেবিনের স্বামী পারভেজ মল্লিকও একই কাজে মাসোহারা পাচ্ছেন। জেবিন প্রতি বছর দেশে আসেন এবং ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠকও করেন। আর আমিনুল হকের সাথে লন্ডনে প্রায়শ জেবিনের গোপন বৈঠকের খবর আওয়ামীলীগের সবাই জানে। জেবিনের স্বামী পারভেজ মল্লিক ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হলেও তিনি তার আগে ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। ক্যাম্পাসের সর্বজনবিদিত যে, ভাসানী হলের বঙ্গবন্ধু টুর্নামেন্টের আহবায়ক পারভেজ মল্লিক পরে ছাত্রদলে যোগদিয়ে আজিজুল বারী হেলালকে ঘুষ দিয়ে সভাপতি পদ বাগিয়ে নেন। বর্তমানে পারভেজ স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক । তিনি ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষের ২৫তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। ওই সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও নারী নির্যাতনের সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন মানিকের কাছের ক্যাডার ছিলেন। এই ধর্ষণকান্ডে পারভেজের নামও তখন পত্রপত্রিকায় আসে। এছাড়া ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিলনের সঙ্গে মওলানা ভাসানী হলে একই রুমে থেকে ছাত্রলীগ করতেন। ১৯৯৮ সালে সালে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের মুখে সেঞ্চুরী মানিক ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হলে পারভেজকেও ধর্ষক হিসাবে হল থেকে বের করে দেয় সাধারণ ছাত্ররা। এরপর ছাত্রদলের যোগদান করে ক্যাম্পাসে আসেন তিনি। পরে তৎকালীন ছাত্রদলের সভাপতির সঙ্গে সখ্য করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের ডিঙিয়ে একাধারে দুইবার জাবি ছাত্রদলের সভাপতি বনে যান। ওই সময়ে জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন মাহবুবা নাজনীন জেবিন। চির প্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই সংগঠনের সভাপতিই এখন স্বামী-স্ত্রী। 


লন্ডনে পেশাগত জীবনে কারো কোনো কর্ম না থাকলেও বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। জেবিনের একজন ঘনিষ্ট বন্ধু জানান,তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা.জোবায়দা রহমানের সবচেয়ে ঘনিষ্ট বান্ধবী এখন ছাত্রলীগ নেত্রী মাহবুবা নাজরিন জেবিন। জোবায়দার সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে জেবিন তাদের পরিবারের সদস্য হয়ে গেছে। তারেকের সাথে পারভেজ মল্লিকের যোগাযোগ থাকলেও জেবিনের ছিলো না। তারেকের লন্ডনের বন্ধু বিমানের সাবেক কর্মকর্তা মাইনুল ইসলামের লন্ডন অফিসে কাজ করতো জেবিন। মাইনুলের মাধ্যমে তারেকের বাসায় অবাধ যাতায়াত শুরু করে জেবিন। ভাবীর সঙ্গে ধীরে ধীরে মিশে যান তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গে। এখন জেবিন ছাড়া জোবায়দা অচল। প্রথম প্রথম জেবিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তার কাছে তারেক রহমানের খোঁজ খবর দিতেন। পরে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে জেবিনকে এসাইনমেন্ট দেয়া হয়। খালেদা জিয়া যখন লন্ডনে ছিলেন তখন প্রতিদিন তার কর্মকান্ড সরকারের দায়িত্বশীলদের কাছে জানাতেন। 

ঢাকা থেকে আওয়ামীলীগ নেতারা সেই অনুসারে বক্তব্য দিতেন। আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একাধিকবার বলেছেন, তারেক রহমানের গতিবিধি আমাদের নজরে আছে। সেখানে আমাদের লোকজন তাকে ফলো করছে। তারেকের ষড়যন্ত্র আমরা জানি। জেবিন তার বান্ধবীকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার একাধিকবার কথা হয়েছে। তিনি তার কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ছাত্রলীগের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল শাখার সাবেক সভাপতি জানান, জেবিন ও পারভেজ মল্লিক মুলত: ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জাকসুর সাবেক ভিপি এনামুল হক শামীমের হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছেন। জেবিন-শামীমের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অনেক মুখরোচক গল্প রয়েছে। জেবিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ২৬ ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন। শামীমের ভাগ্নে ধর্ষণে সেঞ্চুরী করা মানিককে ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের পর ফজিলাতুন্নেসা হলে থাকা জেবিনকে মানিকের শুন্য পদে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। পরে তাকে ২০০২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সভাপতি করে ছাত্রলীগ। শামীমের নির্দেশে সেসময় কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি লিয়াকত শিকদার এবং সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুর সিদ্ধান্তে এই দায়িত্ব পান তিনি। 

কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির প্রথম নারী সভাপতি হিসেবে জেবিন তখন বেশ নজর কাড়তেও সক্ষম হয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ আবারো ঘুরে দাড়ায়। ছাত্রলীগ পুরো ক্যাম্পাসে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে । দল ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি গভীর নিষ্ঠা ও জীবনবাজি রেখে দলীয় কাজ করার কারনণ আওয়ামীলীগের হাইকমান্ড জেবিনকে পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পদবী দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ছাত্রলীগের লিয়াকত-বাবু কমিটির পরে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে মোটামুটি নিশ্চিত ছিলেন জেবিন। তবে বয়স বেশি হওয়ায় ও ছাত্রত্ব না থাকায় আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়ার আশ্বাস দেন হাইকমান্ড। তবে পারভেজের সাথে লন্ডন চলে যাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। লন্ডন গিয়ে সেখানকার আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে দহরম মহরম চলতে থাকে। এরই মধ্যে তারেকের গতিবিধি,কর্মকান্ড এবং চলাচলের খবর নেয়ার এসাইনমেন্ট দেয়ায় সেদিকে মনযোগ দেন তিনি। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক একজন নির্যাতিত নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেবিনের নির্দেশে ছাত্রদলের অনেক নেতা-কর্মী হলে থাকত পারত না। আমার মত অনেকে তার ক্যাডার বাহিনীর হাতে নির্যাতনের চিহৃ নিয়ে চলছে। সেই জেবিন এখন আমাদের নেতা তারেক রহমানের উপদেষ্টা। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কি হতে পারে? একসময় জাবি ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন এমন একজন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, মাহবুবা নাজরিন জেবিনের সাথে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। নেত্রী তাকে বড় দায়িত্বে রেখেছেন। দলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন তিনি। সে না থাকলে তারেকের কর্মকান্ডের খবর আমরা পেতাম না। 

 

এ রকম আর ও খবর



বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  .  জাতীয়  .  স্বাস্থ্য  .  দেশ  .  লাইফস্টাইল  .  ফিচার  .  বিচিত্র  .  আন্তর্জাতিক  .  রাজনীতি  .  শিক্ষাঙ্গন  .  খেলাধুলা  .  আইন-অপরাধ  .  বিনোদন  .  অর্থনীতি  .  প্রবাস  .  ধর্ম-দর্শন  .  কৃষি  .  রাজধানী  .  শিরোনাম  .  চাকরি
Publisher :
Copyright@2014.Developed by
Back to Top