শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ১১:১৮:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
মঙ্গলবার, ০৯ অক্টোবর, ২০১৮, ১১:৪৭:২০
Zoom In Zoom Out No icon

রায়ে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা বিএনপির

রায়ে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা বিএনপির

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে বিচারকের ওপর সরকার অবৈধ প্রভাব খাটাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এ মামলায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কয়েকজন নেতা ও তৎকালীন প্রশাসনের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে যেভাবে জড়ানো হয়েছে, তা যে কোনো দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখানোর মতো। এ ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক বিচার প্রক্রিয়া একমাত্র নৈরাজ্যবাদী সরকারের পক্ষেই সম্ভব।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এসব অভিযোগ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সরকার তারেক রহমান ও বিএনপিকে হেনস্তা করার জন্য ব্যস্ত। সার্বিক বিবেচনায় তাদের মনে দৃঢ় সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে যে, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও বিচারক মোতাহার হোসেনের দৃষ্টান্তকে সামনে রেখে একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারকের ওপর অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সরকার তাদের নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রায়ের পর বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে পড়বে। তার এমন বক্তব্যের পর যে কোনো ব্যক্তি ধারণা করতে পারেন যে মামলার রায় কী হতে পারে।

এস কে সিনহার বিষয়ে তিনি বলেন, ষষ্ঠদশ সংশোধনী মামলায় আপিল বিভাগের রায়ের পর সাবেক প্রধান বিচারপতিকে তার বাড়িতে অবৈধভাবে পাহারায় রেখে মিথ্যা অসুস্থতার গল্প সাজিয়ে দেশত্যাগে বাধ্য করেছিল এই সরকার। পরে তার আত্মীয়স্বজনকে হত্যার হুমকি দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল। এর আগে মানি লন্ডারিং মামলায় তারেক রহমানকে সাজা দেওয়ার জন্য বিচারক মোতাহার হোসেনকে সরকারের লিখিত রায়ে সই করার জন্য বর্তমান আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জাইরুল হক ও যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। সরকারের অন্যায় হুকুম অমান্য করে বিচারক হিসেবে সঠিক রায় দেওয়ার ফলে মোতাহার হোসেন বর্তমানে বিদেশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, 'বিচারালয়ের এ দুটি ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশবাসীকে জানাতে চাই— এ সরকার বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য আদালতকে যেভাবে ব্যবহার করছে, তার আরেকটি নগ্ন উদাহরণ হয়তো ১০ অক্টোবরও হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছি।'

প্রসঙ্গত, ১০ অক্টোবর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করবেন ঢাকার মহানগর বিশেষ আদালত।

সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ বলেন, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রকাশিত বইয়ের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বিচারাঙ্গনের অন্দরমহলের কালো থাবার আগ্রাসী ব্যবহারে বিএনপি শঙ্কিত এ কারণে যে, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় সরকার তার অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য তারেক রহমানসহ ওই মামলার বহু আসামি ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করার সব ধরনের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, 'প্রতিহিংসামূলকভাবে এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়িত করা হয়েছে। মুফতি হান্নানের প্রথম স্বীকারোক্তিতে তারেক রহমানের নাম ছিল না, প্রথম চার্জশিটে তার নাম ছিল না। এই সরকার আসার পর অবর্ণনীয় অত্যাচারের ফলে মুফতি হান্নানের দ্বিতীয়বারের স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়, যেটা আইন অনুযায়ী করা যায় না। পরে তিনি এটা প্রত্যাহারও করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা, যিনি সরকারের একেবারে নিজস্ব মানুষ। এ দুটি বেআইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করেছে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে।'

একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার শুরু থেকে তারেক রহমানের প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, 'এ মামলায় মোট ২২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। একজন সাক্ষীও বলেননি, তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য এ ধরনের মামলা সাজানো হয়েছে। আইনজীবী হিসেবে বলতে চাই, এ মামলায় যদি সাজা দেওয়া হয়, তা হবে ফরমায়েশি রায়, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। যে সাক্ষ্য-প্রমাণ আছে, সেই সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তারেক রহমান, আবদুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর- এদের শাস্তি দেওয়া অনুচিত হবে।'

তিনি বলেন, 'আদালতকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে কয়েকবার বলেছেন, এটা হয় না। বিচারকও তখন তার সঙ্গে একমত হয়েছিলেন। কিন্তু এখন কী হবে, তা বলা মুশকিল।'
 

তিনি বলেন, 'এ মামলার সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি তারেক রহমান ও বিএনপি সম্পর্কে একটি কথাও বলেননি। হঠাৎ করে কেন এটা বলা হলো?'

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপিকা সাহিদা রফিক, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এ রকম আর ও খবর



বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  .  জাতীয়  .  স্বাস্থ্য  .  দেশ  .  লাইফস্টাইল  .  ফিচার  .  বিচিত্র  .  আন্তর্জাতিক  .  রাজনীতি  .  শিক্ষাঙ্গন  .  খেলাধুলা  .  আইন-অপরাধ  .  বিনোদন  .  অর্থনীতি  .  প্রবাস  .  ধর্ম-দর্শন  .  কৃষি  .  রাজধানী  .  শিরোনাম  .  চাকরি
Publisher :
Copyright@2014.Developed by
Back to Top