Nationnews24.com | Leading bangla online newsporlal in bangladesh.
ভারতের মহিষ মাংস রফতানিতে ধস, কারণ কী?
মঙ্গলবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ১৭:২৮ অপরাহ্ন
Nationnews24.com | Leading bangla online newsporlal in bangladesh.

Nationnews24.com | Leading bangla online newsporlal in bangladesh.

মহিষের গোশত রফতানি ১৫ ভাগ কমতে যাচ্ছে ভারতের। বিশ্বের শীর্ষ গোশত ভোক্তা চীন খাদ্য চোরাচালান বন্ধ করতে অভিযান চালানোর ফলে ভারতের মহিষের গোশত রফতানি ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

খুরা রোগের শঙ্কায় ভারতীয় মহিষের গোশত আমদানি করার সুযোগ দিচ্ছে না চীন। তবে আমদানির অনুমোদনপ্রাপ্ত অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর সাথে প্রায়ই মহিষের গোশতও পাচার হয়ে থাকে।

এই অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য চীন বড় ধরনের অভিযানে নেমেছে। বিশেষ করে এই চক্রটিকে ভেঙে দিতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চীন।

অনেক সময় ভিয়েতনামের মতো দেশে ভারতীয় মহিষের গোশত রফতানি হয়। সেখান থেকে ভারতীয় মহিষের গোশত পাচার হয় চীনে। অল ইন্ডিয়া মিট অ্যান্ড লাইভস্টক এক্সপোর্টাস এসোসিয়েশন এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট ফৌজান আলভি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে চীন অদ্ভূত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর তাতে রফতানির বিষয়টি প্রতিফলিত হচ্ছে।

চীনা কাস্টমস দফতর এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

চীনা আমদানি কমে যাওয়ায় বিশ্বে মহিষের দ্বিতীয় বৃহত্তম গোশত রফতানিকারক ভারতে এই গোশতের দাম পড়ে গেছে। তবে এতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও ইরাকের মতো দেশগুলোর ক্রেতারা কম দামে গোশত পেয়ে খুশিই হবে।

আলভি বলেন, ৩১ মার্চ সমাপ্ত অর্থ বছরে গোশত রফতানি ১.১৫ মিলিয়ন টনে নেমে আসবে। তা আগের বছরের চেয়ে ১৫ ভাগ কম। ২০১২-১৩ সময়কালের পর এটিই সর্বনিম্ন রফতানি। অন্যান্য রফতানিকারকেরা বলছেন, রফতানি হ্রাস পেতে পারে ১০ ভাগের কম।

ভারতের কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য পণ্য রফতানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে গোশত রফতানি ১০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ভারতের রফতানি ২০১৭-১৮ সালে হয়েছে ১.৩৫ মিলিয়ন টন। এর অর্ধেক রফতানি হয়েছে ভিয়েতনামে।

ভারতীয় গোশতের বড় অংশ হলো মহিষের গোশত। ভারতে গরুকে দেবতা মনে করা হলেও মহিষকে এই শ্রেণিতে ফেলা হয় না।

ভারতে মহিষ সাধারণত ব্যবহৃত হয় দুধ উৎপাদনে। তবে দুধ উৎপাদনের ক্ষমতা শেষ হয়ে গেলে মহিষ জবাই করা হয় গোশতের জন্য। তবে গরুর গোশতের তুলনায় মহিষের গোশতের মান কম। এগুলো মূলত প্রক্রিয়াকরণ করা খাবারে ব্যবহৃত হয়। ভারত বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মহিষের গোশত রফতানি করে।

ভারতের অনেক রাজ্যে খুরা রোগ দেখা দিয়েছে। এসব রাজ্য থেকে চীন গোশত আমদানি করতে চাইছে না।

চীনা ক্রেতারা অপ্রয়োজনীয় উচ্চ মূল্য দিচ্ছে। সরাসরি রফতানি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই লাভজনক হতে পারে।

দিল্লি ভিত্তিক এক রফতানিকারক জানান, ডলারের বিপরীতে রুপির মান কমে যাওয়ায় ভারতীয় রফতানিকারকেরা ব্রাজিলের মতো প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক কম দামে রফতানি করার সুযোগ পেয়েছিল।

তিনি বলেন, কিন্তু গত কয়েক মাসে চীন থেকে চাহিদা কমে গেছে। তিনি এই স্পর্শকাতর বিষয়ে আর কিছু বলতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, অন্যান্য ক্রেতা চীনের মতো এত বড় নয়।

আল নূর এক্সপোর্টসের অংশীদার প্রিয়া সুদ নামের এক ব্যক্তি জানান, কয়েকটি গোশত প্লান্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেও গোশত রফতানি কমে গেছে। এই প্রতিষ্ঠানটি উত্তর প্রদেশ রাজ্যে কাজ করে থাকে।

ভারতের সবচেয়ে বড় রফতানিকারক রাজ্য হলো উত্তর প্রদেশ। এই রাজ্যের সরকার প্রধান হচ্ছেন এক উগ্র হিন্দু। এখানে ধর্মীয় উৎসবের সময় গোশত প্লান্টগুলো বন্ধ রাখা হয়। এখানে গবাদি পশু রক্ষায় বিশেষ আইন করা হয়েছে।