Nationnews24.com | Leading bangla online newsporlal in bangladesh.
বাবাকে নিয়ে সন্তানের স্মৃতি কতদিন বাবা বলে কাউকে ডাকতে পারিনি
সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ১৬:২৯ অপরাহ্ন
Nationnews24.com | Leading bangla online newsporlal in bangladesh.

Nationnews24.com | Leading bangla online newsporlal in bangladesh.

বাবা শুধু বাবা নয় এক সৈনিক খেটে যায় আজীবন সেতো দৈনিক বাবা......... গল্প টা হৃদয় বিদারক ফেইসবুক থেকে নেয়া। এখনো মনে হয় এইত বাবা আমার সামনেই আছে। কিন্তু দেখতে দেখতে আজ ২ বছর হলো বাবাকে দেখিনা। বাবা না থাকার শূণ্যতা সেদিন ই অনুভব করেছি, যেদিন বাড়ি ফেরার সময় একবার ও বাবার ফোন এসেছিলো না। কারন বাবা ত তখন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করতেছিলো। ছোট বেলায় রৌদ্রে খেলাধুলা করে পানি খেতাম। আর সন্ধার পর কাশি শুরু হত, কোন রকম করে দাতে দাত ঠেকিয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম, যাতে বাবা না বুঝে আমার কাশি হয়েছে। কিন্তু ঘুমের মধ্যে যখন খুব কাশতাম, তখন মধ্য রাতেও অন্য গ্রামে ডাক্তারের বাড়ি গিয়ে ঔষধ নিয়ে এসে খাওয়াইত। কৃষক বাবাকে অনেক ঘাটতে দেখেছি, স্কুলে পড়তে বাবাকে পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি কাজে পরিপূর্ণভাবে সাহায্য করার চেষ্ট করতাম। তখন সমাজের অনেকেই বলত ছেলেকে ভালোমতো পড়াশুনা না করিয়ে কামলা বানাইতেছে। সময়ের ব্যবধানে সেই আমিই রাজধানীতে থেকে পড়াশুনা করে, আলহামদুলিল্লাহ একটা চাকরিও করতেছি। সবই ছিলো আল্লাহর রহমত, আর মা বাবার দোয়া ও ভাইবোনদের স্নেহ ভালোবাসা। কিন্তু সেই বাবাকে আমি কিছুই দিতে পারিনি। ক্যান্সার ব্যধি আমার প্রিয় বাবাকে আমাদের কাছ থেকে চিরদিনের জন্য পর করে দিয়েছে। আল্লাহ যা ভালো মনে করেছেন, তাই হয়ত করেছেন। বাবাকে কখনো কাঁদতে দেখিনি। কিন্ত আমাকে যে কতটা ভালোবাসত তা সেদিন বুঝেছি। যেদিন বাতিলের শক্তি আমাকে বন্ধি করে রেখেছিলো, সেদিন যখন বাবা আমাকে দেখতে এসেছিলো তখন যেন তার দু চোখে শুধু অশ্রুই ঝড়েছিলো। বাবাকে ত কিছুই দিতে পারিনি। তবে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া মৃত্যুর আগের সময়গুলো বাবার পাশে থেকে খেদমত করার সুযোগ হয়েছিলো। সেদিন মা বার বার বলতেছিলো, তোর বাবার খাবার প্লেট তুলে রাখ৷ তোর বাবা আজকেই চলে যাবে এই প্লেট আর দরকার হবে না। মা কে বার বার বলতেছিলাম কিসব বলতেছ! এশার নামাযের পর বাবার পাশে বসেই কুরআন তিলাওয়াত করতেছিলাম। কিন্তু সেদিন রাতেই (১০/০২/১৮ রাত ১১:৫) মৃত্যুর ফেরেশতা যে প্রিয় বাবাকে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যাবে বুঝতেই পারিনি। বাবাকে যখন দাফন করে সবাই চলে যাচ্ছিলো। তখনও আমি সেখানে দাড়িয়ে, যে আমার চোখের অশ্রু থামতেছিলো। সেইদিনই অশ্রু ঝড়িয়েছি, তারপর থেকে সবার সামনে সবসময় হাসিমুখে থাকার চেষ্টা করেছি। সবাই ভাবে আমি অনেক খুশি থাকি। কিন্তু এই হাসি যে কতটা যন্ত্রণার তা কাউকেই বুঝতে দেইনা। কতরাত ঘুমাতে পারিনা, বাবার কথা সরণ হলে শুধু অঝোরে অশ্রু ঝড়েছে। জায়নামাজে সিজদাহ্তে মহান রকের কাছে অশ্রু ঝড়িয়ে বার বার বলি, হে আমার প্রভু সন্তান হিসাবে বাবাকে কিছুই দিতে পারিনি। তুমি আমার বাবাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে জায়গা করে দিও। লেখক: মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান।